২০১৪–২০১৬ সময়কালে ওড়িশার সাঁওতাল সম্প্রদায়ের জীবিকা নিরাপত্তা ও মানব উন্নয়ন: একটি বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন
How to Cite the Article: অনন্ত কুমার বেশরা (2017). ২০১৪–২০১৬ সময়কালে ওড়িশার সাঁওতাল সম্প্রদায়ের জীবিকা নিরাপত্তা ও মানব উন্নয়ন: একটি বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন. International Journal of Multidisciplinary Research & Reviews, Vol.2017, no1, pp. 1-15.
Keywords:
সাঁওতাল সম্প্রদায়, ওড়িশা, জীবিকা নিরাপত্তা, মানব উন্নয়ন, আদিবাসী উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা। Title- ২০১৪–২০১৬ সময়কালে ওড়িশার সাঁওতাল সম্প্রদায়ের জীবিকা নিরাপত্তা ও মানব উন্নয়ন: একটি বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়নAbstract
ভারতবর্ষের আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলি দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার মধ্যে সাঁওতাল সম্প্রদায় বৃহত্তম আদিবাসী গোষ্ঠীগুলির একটি, যারা প্রধানত ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, বিহার এবং আসামে বসবাস করে। ওড়িশায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষ গ্রামীণ ও বনাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে এবং কৃষি, বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূমির সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার পশ্চাৎপদতা, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ তাদের জীবিকা নিরাপত্তা ও মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এই গবেষণাপত্রে ২০১৪–২০১৬ সময়কালে ওড়িশার সাঁওতাল সম্প্রদায়ের জীবিকা নিরাপত্তা ও মানব উন্নয়নের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় মানব উন্নয়নের বিভিন্ন সূচক যেমন—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, কর্মসংস্থান, আয়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি—বিশেষত মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA), জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইন, উপজাতি উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বনাধিকার আইন—সাঁওতাল সম্প্রদায়ের জীবিকায় কতখানি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি মূলত গৌণ তথ্যের (Secondary Data) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। আদমশুমারি, সরকারি প্রতিবেদন, গবেষণা নিবন্ধ, পরিকল্পনা কমিশন/নীতি আয়োগের প্রতিবেদন, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন একাডেমিক গবেষণাকে তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করে যে, ২০১৪–২০১৬ সময়কালে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের ফলে কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভূমির নিরাপত্তা এবং টেকসই জীবিকার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য রয়ে গেছে। অতএব, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সামগ্রিক মানব উন্নয়নের জন্য অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং বন ও ভূমির অধিকারের কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।